সতর্ক থাকুন পথে-ঘাটে !

দৈনন্দিন জীবনে পথেঘাটে আমাদের নানাবিধ সমস্যা পোহাতে হয়। এসব ভোগান্তি এড়াতে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সকলেরই কমবেশ ধারণা রাখা উচিত। লেখাটি পড়ে জেনে নিন বিস্তারিতঃ

 

সতর্ক থাকুন পথে-ঘাটে

 

১। ফার্মগেটে হঠাৎ দেখতে পেলেন, কয়েকটা লোক মিলে একজনকে মেরে রক্তাত্ত করে চলেছে। বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিটি আপনাকে বলছে, “ভাই সাহায্য করেন।” মানবতার খাতিরে দয়া দেখাতে আপনি এগিয়ে গেলেই বিপদ হতে পারে আপনার। এরা আপনাকে মেরে সবকিছু নিয়ে যেতে পারে। কারণ এরা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। তাদের এই ‘লোক দেখানো’ মারামারির ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত।

২। ওভার ব্রিজের উপর একজন মহিলা কাঁদছে। সে হয়ত এগিয়ে এসে আপনাকে বলবে, ‘সে বিপদে পড়েছে। সে যার সাথে দেখা করবে, তার মোবাইলে কল দিতে হবে, কিন্তু তার কাছে টাকা নেই। আপনার মোবাইল দিয়ে সেই লোকের নাম্বারে মিসকল দিলেও সে ব্যাক করবে।’ মানবতার খাতিরে আপনি আপনার মোবাইল থেকে কল দিলেন, তো ফাঁদে পড়লেন। এরা নিরীহ মানুষ দেখে তাদের নম্বর সংগ্রহ করে। এবং পরবর্তীতে সেই নাম্বারে কল করে লোভনীয় প্রস্তাব দেয়। রাজি হলে আপনাকে তাদের আস্তানাতে নিয়ে ব্লাকমেইল করবে। আবার অনেকসময় ঘটনাস্থলেই নিজেদের লোক ডেকে এনে আপনাকে বিপদে ফেলে দিতে পারে।

৩। শাহবাগ, মহাখালী, যাত্রাবাড়ী জ্যামে আটকে আছেন। কিছু মহিলা এসে নানা ধরণের লিফলেট (যেমনঃ দুর্বলতা, অক্ষমতা, দুরারোগ্য ব্যাধি) দিয়ে যাবে। নানারকম লোভ দেখিয়ে আপনাকে ফাঁদে ফেলার ব্যবস্থা করবে। এমনকি এটাও বলে যে, রুমডেট এর ব্যবস্থা আছে। আপনি তাদের জালে ধরা দিলেই ফেঁসে যাবেন।

লিফলেট বিতরণ করতে গিয়ে বাসের চিপায় পড়ে আটকে গেছে এক নারী

৪। বিভিন্ন ওভারব্রিজের নিচে, ফ্লেক্সিলোডের দোকানে, অথবা রাস্তা পার হবার সময় সুন্দর চোখের বোরকা পরিহিত নারী আপনার সাথে কথা বলতে চায়। প্রেমের প্রস্তাব নয়, কিন্তু এমনটা ইশারায় বুঝাবে, আপনি ভাববেন একটু চেষ্টা করলেই তাকে কাছে পাবেন। যদি তাই ভাবেন, তবে ধরা পড়ার সম্ভাবনা শতভাগ। আপনাকে তাদের আস্তানায় নিবে। তারপর আপনার আর কিছুই করা লাগবেনা। কাপড়-চোপড় সহ সবকিছু খুলে তারাই রেখে দিবে নিজদায়িত্বে।

৫। গাবতলী, সায়েদাবাদ, সদরঘাট , মাওয়া ফেরিঘাট, আরিচা, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বসে আছেন। দেখলেন যে বাইরে কয়েকজন যুবক তাস, লুডু, দাবা খেলছে। কাছে গেলেন তো ফেঁসে গেলেন।

৬। যাত্রাপথে অপরিচিত লোকের সাথে মতবিনিময় করবেন খুবই কম। আপনি যে স্থানে যাবেন, সেখানে যেনো আপনার পরিচিত লোক থাকে।

৭। রেলগাড়ির ছাদে উঠা থেকে বিরত থাকবেন। কারণ একদল ছেলে পাওয়া যায়, যারা রেলের ছাদের উপর থেকে ছিনতাই করে ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।

৮। লঞ্চে কম যাত্রী থাকলে উঠবেন না। একা একা যাত্রাকালে কখনোই কেবিন নিবেন না।

৯। যারা দ্রুত যাতায়াতের জন্য স্পিডবোটে যাতায়াত করবেন, তারা টাকা বা মুল্যবান কিছু সাথে নিবেন না। কারণ এক দল আছে, যারা বোট ছাড়ার পর নির্জন স্থানে বোট ভিড়িয়ে ছিনতাই করে আপনাকে নামিয়ে দিতে পারে।

১০। হেঁটে যেতে হলে বিভিন্ন বাসের মাঝখান দিয়ে যাওয়া অনুচিত। কারণ নেশাখোররা সেখানে ওঁত পেতে থাকে ছিনতাইয়ের জন্য।

এছাড়াও যাতায়াতের সময় এ জাতীয় যেকোনো বিষয়ে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। সচেতনতা গড়তে শেয়ার করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন। ধন্যবাদ…

(জনসচেতনতায়ঃ প্রজেক্ট ছারপোকা)