Home / Latest News / আত্মহত্যায় প্ররোচিত কর‍ায় নিষিদ্ধ হয়েছে যে গানটি !

আত্মহত্যায় প্ররোচিত কর‍ায় নিষিদ্ধ হয়েছে যে গানটি !

যে গানটি শুনে এপর্যন্ত প্রায় কয়েকহাজার মানুষ আত্মহত্যা করেছে !

Gloomy Sunday গানটা হয়ত অনেকের কাছেই অপরিচিত। এই গানটার বিরুদ্ধে মানুষ হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। অনেকের ধারণা, গ্লোমি সানডে গানটি শুনে এপর্যন্ত প্রায় হাজারখানেক মানুষ সুইসাইড করেছে…

তখনকার সব রেডিও নেটওয়ার্ক গানটি প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল, যদিও এই দাবিগুলো প্রমানিত নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্র ও হাঙ্গেরিতে কমপক্ষে ১৯ জন লোক আত্মহত্যা করে। এছাড়াও দাবি করা হয় সাড়া পৃথিবীতে একহাজার জনেরও বেশি মানুষ গানটি শুনার পর আত্মহত্যা করেছেন। স্বভাবতই দাবিগুলো প্রমান করা কঠিন ছিল। তবে অনেকগুলো প্রমাণ করাও হয়েছিলো…

হাঙ্গেরিতে অনান্য দেশের তুলনায় আত্মহত্যার হার এমনিতেই বেশি কিন্তু কিংবদন্তীতে দাবী করা হয় গানটি প্রকাশের পর মানুষ আরো বেশি আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকে পরে। কোন গবেষণাতেই অবশ্য স্পষ্ট করে গান ও আত্মহত্যা সম্পর্কে বলা নেই।

গানটি প্রকাশের পর সেরেসের সাবেক স্ত্রী আত্মহত্যা করেন। জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে গানটি প্রকাশের প্রায় ৩৫ বছর পর রেজো সেরেসও বুদাপেস্টে একটি ভবনের জানালা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্ঠা করেন কিন্তু তিনি বেচেঁ যান। পরবর্তীতে একটি হাসপাতালে তিনি গলায় তার পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন। গ্লোমি সানডে গানটি আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বিবিসি বিলি হলিডের ভার্সনটি প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল কিন্তু ২০০২ সালে বিবিসি নিষেধাঙ্ঞা তুলে নেয়। আরো কয়েকটি রেডিও নেটওয়ার্কের গানটি প্রচার বন্ধ করার তথ্য পাওয়া যায়।

গ্লোমি সানডে, হাঙ্গেরিয়ান পিয়ানোবাদক ও কম্পোজার রেজো সেরেসের কম্পোজ করা একটি গান যা ১৯৩৩ সালে ভিজি-অ্যঁ ভীলাগ্নাক (ইন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। গানটির কথা লিখেছিলেন লাজলো জাভোর ও তার ভার্সনে গানের শিরোণাম ছিল জুমোরো ভাসার্নাপ…

১৯৩৩ সালের শেষের দিকে গানটি শীট মিউজিকে প্রকাশিত হয়। পল কামার ১৯৩৫ সালে হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় প্রথম গানটি রেকর্ড করেন। হাল ক্যাম্প ১৯৩৬ সালে প্রথম গ্লোমি সানডে শিরোণামে গানটি ইংরেজিতে রেকর্ড করেন ও গানের কথা লেখেন স্যাম এম. লিওইজ। একই বছরে পাউল রবিসন নতুন করে রেকর্ড করেন ও এর কথা লেখেন ডেসমর্ন্ড কার্টার। বিলি হলিডে ১৯৪১ সালে গানটির আরো একটি ভার্সন বের করলে এটি ইংরেজি ভাষাভাষী জনগণের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠে। লিওউজের কথাগুলো আত্মহত্যা সমর্থন করে এবং রেকর্ড লেভেলে এই গানটিকে “হাঙ্গেরিয়ান আত্মহত্যার গান” বলে উল্লেখ করা হয় বিদেশী কিংবদন্তীতে দাবী করা হয়, এই গান শুনে একশত এর বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছে…

মজার ব্যাপার এটাই যে, গানটি প্রকাশের পর গায়ক নিজেই দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে শেষবার সফল হন। সে সময়কার পত্রিকাগুলো ঘেটে তার স্ত্রীর আত্মহত্যা সম্পর্কেও খবর পাওয়া যায় !

Share with your friends !

Leave a Reply

[X]