Home / Latest News / দেশীয় মিউজিক ইন্ডাষ্ট্রি এবং আমাদের ‘যাচ্ছেতাই’ স্বাধীন মতবাদ

দেশীয় মিউজিক ইন্ডাষ্ট্রি এবং আমাদের ‘যাচ্ছেতাই’ স্বাধীন মতবাদ

দেশীয় মিউজিক ইন্ডাষ্ট্রি ও আমাদের ‘যাচ্ছেতাই’ স্বাধীন মতবাদ

যারা এখন কথায় কথায় বলে বেড়ান, “বাংলা গান ফালতু। আমি হিন্দি/ইংলিশ গান না হলে শুনিনা !”

তাদের প্রতি আমার একরাশ সমবেদনা। একবারো কি চোখ বুজে মন থেকে বলতে পারবেন যে, আসিফের গান শুনে আপনি বড় হননি? বলতে পারবেন?
দেশীয় সঙ্গীত জগতের ধারা বদলে দেয়ার এক যুগান্তকারী নাম আসিফ আকবর। যার ‘বেশ বেশ বেশ, সাবাশ বাংলাদেশ’ সুরে এখনো কেঁপে উঠে পুরো স্টেডিয়াম ! যার গান শুনে প্রতিনিয়ত ক্রিকেট চেতনায় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে দেশের হাজারো তরুণ ! এটা সেই গান, যা শোনার পর আমারো ক্রিকেটার হতে মন চেয়েছে।

 

সময়টা ২০০১,

তখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়তাম। একদিন হঠাৎ স্কুলে যাবার সময় রাস্তার পাশের একটা চা দোকান থেকে একটা গানের শব্দ ভেসে এলো। আসিফের প্রথম অ্যালবামের গান, “ও প্রিয়া তুমি কোথায়” ! সেদিন থেকে প্রতিদিন, টানা একটাবছর প্রতিদিন আমি যেখানেই গিয়েছি, সেখানেই এই গানটা শুনে এসেছি। স্কুলে যেতে আসতে যতটুকু রাস্তা পেরোতে হত, পুরোটা রাস্তায়ই এই বাড়ি ওই বাড়ি এই দোকান সেই দোকান থেকে এ গানের শব্দ ভেসে আসতো। শুনতে একটুও বিরক্ত লাগতোনা। আমার ঘরভর্তি এখনো আসিফের এত্তগুলা ক্যাসেট। উইকিপিডিয়ার সাথে মিলিয়ে দেখেছি, তার কোনো অ্যালবামই কেনা বাদ পড়েনি আমার।

আসিফ আকবর নিউজপেপার৯৭১

ইনি সেই লোক,  যার গান শুনে আমরা ভালোবাসার অনেক চৌকাঠে পা ফেলেছি। ইনিই সেই আসিফ !

দুঃখের বিষয় হলো, এখনো তার গান অনেকে লুকিয়ে লুকিয়ে শুনে। কেউ ভলিউম বাড়িয়ে শোনার সাহস করেনা। দেশের সংস্কৃতিটাই যেনো বিক্রি হয়ে গেছে বিদেশিদের কাছে। সেই সাথে বিক্রি হয়ে গেছে আমাদের আবেগ আর আত্মসম্মানবোধ !

 

বাংলাদেশে সঙ্গীত মানে শুধু আসিফই নয়, দেশীয় সঙ্গীতকে এপর্যন্ত টেনে আনার পেছনে মিউজিক ইন্ড্রাষ্ট্রিতে কাজ করা প্রত্যেকেরই অবদান অসামান্য। এই লেখাটা এজন্যই লিখলাম, ‍আসিফের ফ্যানপেজে লাইক দেয়া ছিলো বলে একজন আমাকে বললেন, “ভাই আপনি বাংলা গান শুনেন? আসিফের গান আপনার ভাল্লাগে? ওহ মাই গড !”

 

তার প্রোফাইলে গিয়ে দেখলাম, তিনি বাংলাদেশের মোটামুটি সব মিউজিক ব্যান্ডের ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে রেখেছেন। টাইমলাইনের আরেকটু নিচে নেমে দেখা গেলো, ভদ্রলোক তার মিউজিক নিয়ে দেয়া একটা পোস্টের নিচে কমেন্ট করেছেন, “ধুর বাংলা গান শুনে কে ! এত চুলকানের টাইম আছে?”

 

অথচ এই লোকটাই কিন্তু দেশের জনপ্রিয় বড় ব্যান্ড‍গুলোর পেজে লাইক দিয়ে রেখেছেন। কনসার্ট ফর কম্বল, জয় বাংলা কনসার্ট সহ একালের প্রায় সব ট্রেন্ডিং কনসার্টগুলোর ইন্টারেস্ট বেজড পেজেই তিনি চেকইন দিয়ে রেখেছেন। বাদ যায়নি রবীন্দ্রসরোবর থেকে আর্মি স্টেডিয়াম কোনোটাই। ‌এই লোক ঠিকই বাংলা গান শুনেন। কিন্তু কারো সামনে সেটা বলতে পারেন না। নিজের দেশের সংস্কৃতিকে তিনি নিজের বলতে লজ্জা পান। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে তিনি দৌড়ানো শুরু করে দিয়েছেন।

 

এই দৌড়ের কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই। আপনারা যদি দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে না পারেন, দেশীয় সংস্কৃতিকেই প্রমোট করতে না পারেন, তাহলে দেশের নামের উপর ধুলো ফেলার কোনো প্রয়োজন তো আপনাদের নেই। চুপচাপ বসে থাকুন না? পারলে আসিফ হয়ে দেখান, জেমস আইয়ুব বাচ্চু কিংবা বেজবাবা সুমন হয়ে দেখান। ছাগলামি দেখিয়ে কি লাভ? সেটাই তো বুঝলাম না…

 

‍সবশেষে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের একটা ইন্সট্রুমেন্টাল ভার্সণের লিংক দিয়ে লেখাটা শেষ করছি। উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবেনা আপনাকে। শুধু একটা উত্তরই জানিয়ে যাবেন, জাতীয় সঙ্গীতের এই ট্র্যাকটা শোনার সময় কতজন বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। আর কতজন আলসেমির কারণে আগের পজিশনেই বসে ছিলেন। সত্যিটা জানাবেন। সমস্যা নেই 🙂

Share with your friends !

Leave a Reply

[X]