Home / Bangladesh / নারীকর্মীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির সাথে বিশেষ ভাতা দেয়া চাই

নারীকর্মীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির সাথে বিশেষ ভাতা দেয়া চাই

আমাদের দেশের সরকার অধিনস্ত প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মচারীগণ তাদের চাকরী জীবনে দুইবার ‘সন্তান প্রসবকালীন ছুটি’ বা ‘মাতৃত্বকালীন ছুটি’ পেয়ে থাকেন। আগে এই ছুটির দৈর্ঘ্য ছিলো মাত্র তিনমাস। পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি করে ছয়মাস করা হয়েছে। যদিও মাতৃত্বকালীন ছুটির সাথে অন্যান্য ছুটি মিলিয়ে কর্মে অনুস্থিতির সময় প্রয়োজন মত দীর্ঘায়িত করা যায়…

মানবকল্যাণের জন্য শপথ নেয়া যেকোনো সরকারকেই তার নাগরিকদের সর্বাধিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সর্বদাই সচেতন থাকতে হয়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। বিশ্বের প্রায় সব উন্নত দেশগুলোতেই নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয়া হয়। সে হিসেবে আমাদের মাননীয় সরকার সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে প্রতিনিয়ত টেনে নিয়ে যাচ্ছেন।

আমাদের দেশে সরকারী কর্মচারীগণ প্রতি তিনবছর পর পর চিত্তবিনোদন ছুটি পেয়ে থাকেন। তারা এক মাসের মূলবেতনের সমপরিমাণ ভাতাসহ ১৫ দিনের জন্য এ ছুটি পান। আমি মনে করি, চিত্তবিনোদন ছুটির মত করে নারী কর্মচারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির সাথেও অন্তত তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ মাতৃত্বভাতা দেয়া উচিত।

চিত্তবিনোদনের ছুটি তো আমরা ঘরে বসেও কাটাতে পারি। এজন্য কোনো খরচ না নিলেও অনেকাংশে আমাদের চলে যায়। বাস্তব কথা ! কিন্তু সন্তান জন্মদানকালীন সময়ে অনেক খরচ হয়। প্রসূতির স্বাস্থ্যরক্ষা থেকে শুরু করে দর্শনার্থীদের আপ্যায়ন পর্যন্ত খরচের তো আর শেষ নেই। সেই সাথে রয়েছে হাসপাতাল বা ক্লিনিকের বিল। আবার যদি মা ও শিশু অন্য কোনো কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তার জন্য রয়েছে বাড়তি চিকিৎসা খরচ !

একটা ব্যাপার কি জানেন? আমাদের দেশের মেয়েরা প্রতিবন্ধীদের অবহেলা করেনা। এমন অনেক নারীই আছেন, যাদের স্বামী কাজ করতে অক্ষম। আর এমনিতে তো ডিভোর্স হয়েছে বা স্বামী মারা গেছে এরকম অনেক নারীই আছেন, যারা একাই সংসারের হাল টেনে যাচ্ছেন। গর্ভকালীন সময়ে এদের সংসার চলে কিভাবে, ভেবে দেখেছেন?

তাই আমি মনে করি, গর্ভবতী নারীদের বাড়তি সুযোগ সুবিধা ও বাড়তি গুরুত্ব দেয়া রাষ্ট্রের এবং এক কথায় প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। মাতৃত্বকালীন ছুটিকে তাই নারী কর্মচারীদের জন্য সুবিধা নয়, অধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই অধিকার তিনি জন্মসূত্রেই লাভ করবেন। আর তাকে কিছু বাড়তি অর্থ দিয়ে এই সময়টাকে নিরাপদ করা রাষ্ট্রেরই একটি দায়িত্ব। আশা করি, মাননীয় সরকার আমাদের এই ক্ষুদ্র দাবীটিকে বিরাট আকারে দেখবেন। ধন্যবাদ 🙂

Leave a Reply

[X]