Home / Latest News / অমিমাংসিত | সায়েন্স ফিকশন

অমিমাংসিত | সায়েন্স ফিকশন

২০১৩ সালের ২৫ শে অক্টবর। মানুষের বিবর্তন নিয়ে গবেষনা করা প্রফেসর আজমত দুনিয়াতে এক বিশাল বোমা ফালাতে চলেছেন। এটা কোন এটম বোমা নয়। মানুষের হাজার হাজার বছর ধরে চর্চা করা বিশ্বাসে ফালাতে চলেছেন এটম বোমা থেকে শক্তিশালী কিছু।

টেবিল থেকে তার ছোট কলমটা তুলে নিলেন প্রফেসর । মানসিক চাপ আর অত্যাধিক এন্ডোনালিন খরনে প্রফেসর আজমত কি করছেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। ইজি চেয়ারে বসে কলমটা টান দিয়ে একটা লেখার মতো ডিসপ্লে ভেসে উঠলো তার সামনে। ডিজিটাল জানালাতে এক মূহূর্তের জন্য তাকিয়ে তিনি পত্রিকার জন্য তার আবিষ্কারের ছোট খাটো একটা প্রবন্ধ লেখতে বসেছেন।

“শিরোনাম: মানুষ কে? নাকি এক খেলার অংশ?”

নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব আবিষ্কার হওয়ার পর অনেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ে কেউ নিউটনকে নিয়ে ভাবেনি। কেউ ভাবেনি নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কারের হোতা সেই লাল আপেলটি নিয়ে। নিউটনের সকল সুত্রই ঠিক আছে। তবে সুত্রটি ঠিক নিউটনের নয়।

নিউটন খুব ভাবুক আর গবেষনা ধর্মী ছিলেন। তবে তার পক্ষে সম্ভব ছিলো না মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নিয়ে কোন তত্ত্ব দেয়া। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বলে কিছু আবিষ্কার করা। ধরুন আপনি কোনদিন ইংরেজি অক্ষর দেখেন নি। আপনার পক্ষেও সম্ভব হবে না কোনদিন ইংরেজি হরফ দিয়ে কোন কিছু লেখা। কারন তার সম্পর্কে আপনার কোন ধারনাই নেই। হুম আমি বলতে চাচ্ছি মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব সম্পর্কে নিউটনের কোন ধারনা ছিলো না। অন্য কেউ তাকে ধরনাটি দিয়েছে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে তাকে ধারনাটি কে দিয়েছে? যে দিয়েছে সে কিভাবে মাধ্যাকর্ষণ নিয়ে ভাবতে পেরেছে?

তবে আপনার প্রশ্ন নিয়ে আমি মন্তব্য করবো আপনি ভালো প্রশ্ন করেছেন।

আচ্ছা এমন কি হয়না যে, পৃথিবীর কেউ তাকে এই ধারনা দেয়নি? হয়না অন্য কোন গ্রহবাসী তাকে ধারনাটি দিয়েছে? অথবা তাকে এই বিষয় নিয়ে ভাবতে কোন ইঙ্গিত করেছে?

আমার এই প্রশ্নে আপনি কিছুটা ভ্রু কুঁচকেছেন আর কিছুটা বিব্রত হয়েছেন। আর কেউ মনে মনে ভাবছেন ‘লোকটা কি বলতে চাইছে? ‘ । আসলে আমি তেমন কিছু বলতে চাইছি না। আচ্ছা একটা গল্প বলি, ধরুন

– একটা জন্মান্ধ লোককে একটা কাগজ আর রং তুলি দিয়ে বসিয়ে দেয়া হলো। তাকে বলে দেয়া হলো তার সামনে যা আছে তা আঁকতে । লোকটা যেহেতু অন্ধ তাই তিনি কিছুই আঁকতে পারলেন না। এর পর তার জন্মান্ধের কথা বিবেচনা করে তাকে বলে দেয়া হলো

* তার সামনে একটা গাছ
* গাছের উপরের আকৃতি ঠিক আপনার মাথার চুলের মতো।
* গাছের নিচের আকৃতি আপনার হাতের মতো।
* গাছের পাতার রং সবুজ এবং নিচে খয়েরি
* সবুজ রং রাখা আছে ডান পাশে আর লাল রং রাখা আছে বাম পাশে।

এর পর তিনি ছবিটা আঁকলেন। ”

এই গল্প থেকে আমি বলতে চাইছি নিউটন ছিলেন মাধ্যাকর্ষণ নিয়ে সম্পূর্ন অজ্ঞ। এক কথায় সে বিষয়ে তিনি ছিলেন জন্মান্ধের মতো। তাহলে কিভাবে তিনি পারলেন মাধ্যাকর্ষণ নিয়ে সূত্র দিতে?

আপনি বলতে পারেন হয়তো তিনি কল্পনা করেছেন। আচ্ছা মানুষ কল্পনা করে কি নিয়ে? যা সে দেখে অথবা যা সে দেখে তার ঠিক অন্য কোন রুপ নিয়ে। যেমন ধরুন রাইট ব্রাদার্স এরোপ্লেন তৈরী করেছেন। তারা কিন্তু পাখিকে দেখে কল্পনা করেছেন। তারা কল্পনা করেছেন পাখির মতো আকাশে উড়বে। সেখান থেকেই তারা উড়োজাহাজ তৈরী করেছেন।

কিন্তু নিউটন কিভাবে মাধ্যাকর্ষণ নিয়ে কল্পনা করলো? সেকি মধ্যাকর্ষন দেখতে পেয়েছিলো? আপনি কি বলতে চান একটি আপেল দিয়েই তিনি গবেষনা করে ফেলেছেন? আপেলকি দেখতে অথবা অনূভব করতে মধ্যাকর্ষনের মতো?

উত্তর অবশ্যই আছে। এর আগে বলে রাখি শুধু নিউটন নয় গ্যালেলিও,টমাস আলভা এডিসন, আইনস্টাইন সবাই ঠিক নিউটনের পথের পথিক। তারা যা কিছু আবিষ্কার করেছে তার কোন কিছুতেই নিজের সম্পূর্ন কৃতিত্ব নেই ।

রয়েছে অন্যগ্রহবাসীদের হাত।

এবার হয়তো আপনি বেশ চিন্তিত। ভাবছেন লোকটা কিছুটা যুক্তি আর কিছুটা আজেবাজে বকাবাজিতে আপনার মাথাটা খেয়ে দিচ্ছে । নিজেকে নতুন কোন বিপ্লবের নায়ক করতে চাইছে। তবে এবার ধরে রাখুন আপনি ভুল। আমি তা প্রমান করছি ।

প্রতমত, নিউটন তার নিজের আবিষ্কার নিয়ে অনেক ডায়রি লিখে গিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন তিনি আপেল গাছের নিচে বসে আপেল খাচ্ছিলেন হঠাৎ একটা লাল আপেল তার মাথার উপর পরে এবং তিনি অচেতন হয়ে যান। চেতনা ফিরে পেয়ে তিনি ভাবতে শুরু করেন।

কিন্তু তিনি যে গাছের নিচে বসে ছিলেন সেই গাছের এবং সেই এলাকার সব গাছের আপেলের রং ছিলো সাদা । এবং সেই এলাকার আপেলের রং এখনো সাদা। তবে লাল আপেলটি কোথা থেকে এসেছে? এবং সেই এলাকার সকল কবি এমনকি নিউটন সাদা আপেল নিয়ে কবিতা লিখে গেছেন।

তবে লাল আপেল? কোথা থেকে? ভূতুরে আপেল?

না। ভূতুরে কিছু নয়। সব ছিলো এলিয়েনদের একটা সাজানো গোছানো নাটক। তার অংশ ছিলো নিউটন ।

আসলে আমরা হচ্ছি একটা এক্সপেরিমেন্ট এর অংশ । আমাদের এক্সপেরিমেন্ট করছে আমাদের মতোই মানুষ। আমরা যুগ যুগ ধরে যেই মানব বিবর্তন জ্ঞ্যান ধারন করে আসছি সব মিথ্যা।

আমাদের মতোই কিছু মানুষ প্রথম পৃথিবীতে কিছু জ্ঞ্যান শূন্য মানুষকে রেখে যায়। তাদের মধ্যে শুধু ছিলো যৌন কর্মের জ্ঞ্যান। তার থেকেই আস্তে আস্তে পৃথিবীতে মানুষ বৃদ্ধি পেতে থাকে। আবিষ্কৃত হতে থাকে আগুন-চাকা থেকে অনেক কিছু।

কিন্তু আবিষ্কারের দৌড়ে একটা সময় এসে মানুষ থেমে যেতো। কি নিয়ে গবেষনা করবে মানুষেরা খুঁজে পেতো না।মানুষ হতাশ হতো না। শুধু থেমে যেতো একটা স্থানে। তখন সেই আমাদের মতো দেখতে অন্যগ্রহের মানুষেরা আমাদের জ্ঞ্যানে আরেকটু হাওয়া দিতো।

এভাবে তারা আমাদের উপর লক্ষ্য রাখতো। UFO – সসার দিয়ে আমাদের দেখে যেতো। আমরা কি করছি নজর দিতো । নতুন কিছু পেলে আমরা তা দিয়ে কিভাবে অগ্রগতি করি ওরা তা দেখতো। ওরা আমাদের নতুন নতুন কিছু আবিষ্কারের চিন্তা আমাদের অবচেতন মনেই ঢুকিয়ে দিতো। ওরা আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে আবিষ্কার করতে হয়, কিভাবে কবিতা লেখতে হয়, কিভাবে করতে হয় বিনোদন। কিভাবে খাবারে বৈচিত্র আনতে হয়।

আজকে আমরা যে উড়ু উড়ু ফ্লায়িং সসারের কথা শুনি UFO র কথা শুনি সব হচ্ছে ওরা। ওরা আমাদের দেখতে আসে। আমাদের দেখে আমাদের নিয়ে গবেষনা করে। কিন্তু আমরা তাদের নিয়ে করতে পারি না। কারন আমরা তাদের থেকে জ্ঞ্যানের দিক দিয়ে কয়েক হাজার গুন পিছিয়ে। আমরা শুধু তাদের দ্বারা আমাদের জ্ঞ্যানকে বৃদ্ধি করে যাচ্ছি।

তাদের এসব করার পেছনে উদ্দেশ্য হলো একটাই। তা হচ্ছে তারা আমাদের দিয়ে মানুষের বিবর্তন বুঝতে চায়। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য এখনো সফল হয়নি। কারন তারা বুঝতে পারেনি কিভাবে তারা অন্য কোন গ্রহবাসীদের সাহায্য ছাড়া আমাদের মতো কাজ করতে পেরেছে? নাকি আমাদের মতো তাদের ও অন্য কোন গ্রহবাসীরা জ্ঞ্যান দিয়ে সাহায্য করে গেছে?

উত্তর আমার কাছে নেই। ……. ”

ওতোটুক পর্যন্ত লেখার পর আজমত সাহেব কিছুক্ষন বিশ্রাম নেন। বহুদিন তিনি জানালা খুলে বাইরের আকাশের তারা দেখেন না। আসলে এই ধারনাটা মাথায় আসার পর তিনি পৃথিবীটাকে তুচ্ছ করে দেখছেন। কোন কিছুই তার কাছে ভালো লাগছে না। তিনিতো আর পরিক্ষাগারের ব্যাঙের মতো একটা অংশ হতে চান না। তিনি মুক্ত স্বাধীন হতে চান। হয়ে চান না কারো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

ভাবনা শেষ না হতেই তিনি জানালা খোলেন। নাহ, আজ থেকে তিনি মুক্ত। তিনি পৃথিবীর সব মানুষকে মুক্ত করতে চলেছেন এক পরীক্ষাগার থেকে। মানুষ আজ থেকে যা ইচ্ছা করবো। কিন্তু মানুষ যদি আবার থেমে যায়? আবিষ্কার করতে ভুলে যায়?

ভাবনা গুলো মাথায় নিয়েই তিনি আকাশের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে যান। কাল হতে যাচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। যখন মানুষ নিজেকে চিনতে শিখবে।

ঘুমের মাঝেই হঠাৎ প্রফেসর আজমত ঠান্ডা বাতাসের ঝাপ্টায় জেগে উঠেন। সব ঠিক ঠাক রয়েছে। তার বাসায় চোর ঢুকেনি। চোর ঢুকলে আগেই এলার্ম বাজতো। কিন্তু না! একটা জিনিস আসলেই চুরি গেছে। পত্রিকার জন্য লেখা তার প্রবন্ধটা চুরি গেছে। কিন্তু নতুন একটা কিছু আছে সেখানে।

ডিজিটাল পেনটা খুলে তিনি দেখেন তাতে ছোট একটা লাইন লেখা আছে,

” চলতে দাও, নয়তো ভেঙ্গে পরবে। আর অনেক কিছু মিমাংসিত না হওয়াই উত্তম 🙂 ভালো থাকবে “

[X]