Home / Latest News / ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য আল্লাহ পাক কোনো নারী নবী পাঠাননি কেনো?

ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য আল্লাহ পাক কোনো নারী নবী পাঠাননি কেনো?

মহান আল্লাহ পাক যুগে যুগে এক লাখ মতান্তরে দুই লাখ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর পাঠিয়েছেন। তবে আল্লাহ তায়ালা ইসলাম প্রচারের জন্য কোনো মহিলা বা নারী নবী পাঠাননি। যেহেতু ইসলাম নারীদের সবচেয়ে বেশি সম্মান দিয়েছে, তাই অনেকেই নারী নবী না পাঠানোর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরটি নিয়েই আজকের এ আলোচনামূলক বিশেষ পোস্ট !

প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য আল্লাহ পাক কোনো নারী নবী পাঠাননি কেনো?

যদি নবী বলতে আপনি বোঝেন এমন এক ব্যক্তি যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণী গ্রহণ করেন এবং যিনি মানবজাতির নেতা হিসেবে কাজ করেন; তাহলে সেই অর্থে নিশ্চিত করে বল‍া যায়, ইসলামে কোনো নারী নবী আসেনি এবং এটাই সঠিক। কারণ একজন নারীকে যদি নবী হতে হয় তাহলে তাকে সমগ্র মানুষের নেতৃত্ব দিতে হবে। কিন্তু কুরআনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে পুরুষরা হলো পরিবারের প্রধান। সুতরাং পুরুষ যদি পরিবারের প্রধান হয়ে থাকে তবে কিভাবে নারী সমগ্র মানুষের নেতৃত্ব দেবে?

এছাড়াও একজন নবীকে নামাজের ইমামতি করতে হয়। আর নিশ্চয়ই জানেন, নামাজে বেশ কিছু অঙ্গভঙ্গি রয়েছে যেমন – কিয়াম, রুকু, সাজদাহ ইত্যাদি। যদি একজন নারী নবী নামাজের নেতৃত্ব দিত, তবে জামাআতের পেছনে যে সকল পুরুষ সলাত আদায় করত এটা তাদের এবং ইমাম উভয়ের জন্যই বেশ বিব্রতকর হত।

এখানে আরো অনেক ব্যাপার রয়েছে। যেমন – একজন নবীকে সাধারণ মানুষের সাথে সর্বদা দেখা সাক্ষাৎ করতে হয়। কিন্তু এটা একজন মহিলা নবীর পক্ষে অসম্ভব। কারণ ইসলাম নারী-পুরুষ পরস্পরের মেলামেশার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। যদি মহিলা নবী হতো এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সে যদি গর্ভবতী হতো, তবে তার পক্ষে কয়েক মাস নবুওয়াতের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হতনা।

অপরদিকে একজন পুরুষের পক্ষে পিতৃত্ব এবং নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করা একজন মহিলার মাতৃত্ব এবং নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করা থেকে তুলনামূলক সহজ। কিন্তু আপনি যদি নবী বলতে শুধু বোঝেন, এমন একজন ব্যক্তি যিনি আল্লাহ পছন্দের এবং যিনি পবিত্র ও খাঁটি ব্যক্তি, তবে সেখানে কিছু নারীর উদাহরণ রয়েছে – আমি এখানে উত্তম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করব মারইয়াম (আ‍ঃ) এর নাম। তিনি ছিলেন মনোনীত এবং পরিশুদ্ধ। তিনি ছিলেন ঈসা (আঃ) এর মা।

সুরা আল ইমরানের ৪২ নং আয়াতে উল্লেখ আছে – ‘যখন ফেরেশতারা বলেছিল, হে মারইয়াম! আল্লাহ আপনাকে মনোনীত করেছেন, পবিত্র করেছেন এবং নির্বাচিত করেছেন বিশ্বজগতের নারীদের ওপর।’

এছাড়াও সুরাহ তাহরিম-এ ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়ার কথা উদাহরণ হিসেবে নিতে পারেন – ‘আল্লাহ বিশ্বাসীদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর (আছিয়া) অবস্থা বর্ণনা করেছেন।’ ফিরাউনের স্ত্রী আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন – ‘হে আমার রব! আমার জন্য বেহেশতের মধ্যে আপনার সন্নিকটে ঘর নির্মাণ করে দিন, আর আমাকে ফেরাউন থেকে এবং তার (কুফুরি) আচরণ থেকে রক্ষা করুন, আর আমাকে সমস্ত অত্যাচারী লোকজন থেকে হিফাজত করুন। [আত-তাহরিম, আয়াত ১১।]

তাহলে একটু ভেবে দেখুন, তিনি ছিলেন তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সম্রাট ফারাও এর স্ত্রী। অথচ তিনি আল্লাহর ভালবাসার জন্য নিজের আরাম আয়েশ ও বিলাসিতা ত্যাগ করতে চেয়েছেন। সুতরাং আপনি যদি বুঝাতে চান আল্লাহর ‘পছন্দের, পবিত্র ও খাঁটি’ বান্দ‍ার কথা, তাহলে আপনি তাদের উদাহরণ হিসেবে নিতে পারেন।

[পোস্টটি প্রিয় ডটকম থেকে সংগ্রহিত]

Share with your friends !

[X]