Home / Featured / অনলাইনে পরিচয়, অতঃপর মৃত্যু !

অনলাইনে পরিচয়, অতঃপর মৃত্যু !

অনলাইনে বন্ধুত্ব। ধীরে ধীরে প্রণয়ের সম্পর্ক। ভালোবাসার মানুষের জন্য এক দেশ ছেড়ে পৃথিবীর আরেক প্রান্তে পাড়ি দেওয়া। এসব হরহামেশাই দেখছি আমরা। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটা ভীষণ ভয়ংকর। ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে লুকিয়ে রয়েছে কুৎসিত ও ভয়ানক সব চরিত্র। ভালোবাসার টোপ ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে কিংবা বিকৃত মানসিকতা মিটিয়ে খুনও করছে তারা! পৃথিবীজুড়ে ঘটে যাওয়া তেমনই ১০টি অনলাইনে ভালোবাসার ঘটনা তুলে ধরা হলো, যেগুলোর পরিণতি ছিল মৃত্যু।

অনলাইনে পরিচয়, অতঃপর মৃত্যু !

১। খুনের ঘটনাটি ঘটে ২০১০ সালে ম্যাক্সিকান সীমান্তবর্তী অ্যারিজোনায়। লরেন লং নামের ৬২ বছরের এক নারী তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন যাবত একাকীত্বে ভুগছিলেন। একাকীত্ব দূর করতে তিনি নতুন একটি সম্পর্কের কথা ভাবছিলেন। আমেরিকায় এটা খুবই সাধারন একটি ব্যাপার। অনলাইনের মাধ্যমে লরেন তাঁর মনের মানুষটিকে পেয়েও যান। নাম রবার্ট ওয়েসনার। রবার্ট ওয়েসনার ছিলেন লরেনের চাইতে বয়সে ৫ বছরের ছোট এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত রোম্যান্টিক। কিন্তু লরেন, সম্পর্কের কিছু দিনের মধ্যেই ওয়েসনারের আসল রুপটি দেখতে পায়। তিনি তাঁকে শুধরানোর চেষ্টা করেন এবং ওয়েসনারের নামে অভিযোগও দাখিল করেন। এতে আরো ক্ষেপে যান ওয়েসনার। অতঃপর লরেনকে অ্যারিজোনা অঞ্চলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেন রবার্ট ওয়েসনার। হত্যার পর তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত তাঁকে ২২ বছরের জেল দেন। লরেনের পরিবারের বরাত দিয়ে চ্যানেল এবিসি১৫ জানায় যে, ঘটনাটি ছিলো পূর্বপরিকল্পিত। প্রেম নয়, বরং লরেন লংকে খুন করায় ছিলো রবার্ট ওয়েসনারের উদ্দেশ্য!

২। গ্রাহাম ডয়ের পেশায় ছিলেন একজন আর্কিটেক্ট। তিনি ছিলেন বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও অন্য নারীর প্রতি তার অতিমাত্রায় আসক্তি ছিল। অন্য নারীর প্রতি তার শুধুই আসক্তি ছিলো বিষয়টা শুধু এমনও নয়, তিনি যে সকল নারীর সাথে মেলামেশা করতেন তাদের ছুরিকাঘাতে হত্যা করাও ছিলো তার নেশা! ২০০৭ সালে Alt.com-এর মাধ্যমে তার পরিচয় হয় ‘এলেন’ নামের এক নারীর সাথে, যিনি ছিলেন আবার দীর্ঘ দিন যাবত মানসিক সমস্যায় ভোগা হতাশাগ্রস্থ একজন রোগী। নিয়মিতই তাকে হাসপাতালে যেতে হতো। এমনকি এলেন এতটাই মানসিক সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন যে, তিনি বেশ কয়েকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টাও করেছেন। এলেনের সাথে ডয়েরের অনলাইনে সম্পর্ক হওয়ার পর তাদের মধ্যেও শারীরিক সম্পর্ক হয়। শারীরিক সম্পর্ক হবার পর এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রায় চার বছর যোগাযোগ ছিল না। এর কারন এলেনের মানসিক বিপর্যয় ঘটে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। ২০১১ সালের দিকে এলেনের সাথে গ্রাহাম ডয়েরের নতুন করে আবার সম্পর্ক হয়। ২০১২ সালে এলেন হাসপাতাল থেকে পুরোপুরি ছাড়া পেলে ডয়ের তাকে কোন এক পাহাড়ের উপরে ডেকে নিয়ে কণ্ঠরোধ করে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। ২০১৩ সালের পর এলেনের খুনি গ্রাহাম ডয়েরকে আজীবন কারাবাস দেয়া হয়।

৩। ৩৫ বছর বয়স্ক ভেনকাটা কাটামছি নামের একজন ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থাকতেন আমেরিকার মিশিগানে। তিনি একজন সঙ্গী খুঁজছিলেন। একদিন backpage.com–এর মাধ্যমে তার পরিচয় হয় ২৩ বছর বয়সী জেসিকা এরমাটিনজার নামের এক নারীর সাথে। তারা অনলাইনে নানা ধরনের কথাবার্তা বলে পাশের এক মোটেলে একদিন দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। ভেনকাটা মানুষের মুখে শুনেছে যে অনলাইনে দেহব্যবসা চলে এবং পুলিশ জানতে পারলে সাজা নিশ্চিত। ভেনকাটা ঐ নারী সম্পর্কে এতটুকু পরিমাণ সচেতন ছিল, কিন্তু তিনি যেখানে সচেতন হওয়া প্রয়োজন সেখানে সচেতন হতে পারেননি। ভেনকাটা, জেসিকাকে দেয়া কথা অনুসারে ‘ই-জেড রেস্ট মোটেলে’ তার সাথে দেখা করতে গেলে হঠাত তিনি খেয়াল করেন রুমের ভেতরে আরো একজন নারী আছেন। মূলত সেখানে জেসিকা সহ, অন্য ঐ নারীর সাথেও আরো দুজন পুরুষ ছিলো। ঐ নারীর নাম লিন কগিন্স। পুরুষদ্বয়ের নাম যথাক্রমে- জেমস র‍্যান্ডল (৩৫) এবং কেভিন হুফম্যান (২৮)। তারা সকলেই ভেনকাটাকে অপহরন করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ভেনকাটা পৌছানো মাত্রই তারা সবাই হামলা করলে তিনি দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হন। পেছন থেকে গুলি করে ৩৫ বছর বয়স্ক ভারতীয় সফটওয়্যার প্রকৌশলী ভেনকাটা কাটামছিকে হত্যা করে তারা। পরবর্তীতে র‍্যান্ডল এবং হাফম্যানকে আজীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়, একই সাথে জেসিকা এরমাটিনজারকে ২০ বছর ও লিন কগিন্সকে১৫ থেকে ৩০ বছর মেয়াদে জেলে দেয়া দেয়।

৪। ২০১১ সালে অনলাইনে সম্পর্ক হয় ল্যাভার ওয়াটসন এবং অ্যাশলে ল্যাভেলের। তারা সিদ্ধান্ত নেন একে অপরের সাথে দেখা করবেন। সামনে ছিলো বড়দিন, ওয়াটসন ভাবলেন, প্রিয় মানুষটির সাথে দেখা করার জন্য বড়দিনের রাতই সবচে সুন্দর সময়। দুজনে মিলে ঠিক করলো বাসার পাশেই কোন এক মুভি থিয়েটারে তাদের প্রথম দেখা হবে এরপর সেই রাতের উপর ছেড়ে দেয়া যাবে যে, সেই রাত তাদের কোথায় নিয়ে যায়! কথামতেই তারা একটি মুভি থিয়েটারে দেখা করলেন। থিয়েটার থেকে বের হয়ে অ্যাশলের গাড়ীতে উঠে বসলেন ওয়াটসন। অ্যাশলে গাড়ি চালানোর সময়ই ওয়াটসনকে বলছিলেন ‘স্টেভিন রুপনারিন’ নামের তার এক বন্ধুকে তার গাড়িতে করে কোথাও নামিয়ে দিতে হবে। এদিকে অ্যাশলের বন্ধু স্টেভিন অ্যাশলেকে বারবার মোবাইলে টেক্সট মেসেজ দিয়েই যাচ্ছেন, তিনি জেনেছিলেন অ্যাশলের সাথে রয়েছে ওয়াটসন। তিনি টেক্সট পাঠালেন ওয়াটসন অবশ্যই একজন বাজে চরিত্রের মানুষ, যে কিনা তোমাকে অপহরণ করার জন্য তোমার সাথে সম্পর্ক করেছে। অ্যাশলে টেক্সট পড়াকালীন গাড়ি চালাচ্ছিলেন, কিন্তু এক পর্যায়ে সামনে স্টেভিনকে দেখে গাড়ি থামান অ্যাশলে। গাড়ি থামানো মাত্রই স্টেভিন ওয়াটসনকে পরপর চারটা গুলি করে। বন্ধু স্টেভিন যখন গুলি করছিলেন তখন অ্যাশলে পাশেই ছিলেন। খুন করার পর অ্যাশলে এবং স্টেভিন ওয়াটসনের দেহটাকে আবর্জনায় ফেলে দেন। ওয়াটসনের ওয়ালেটে যত টাকা ছিলো তা নিয়ে নেন স্টেভিন এবং সেই টাকা দিয়ে গাড়ির জন্য গ্যাস কিনে, গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন অ্যাশলে এবং স্টেভিন দুই বন্ধু। এই খুনের দায় থেকে স্টিভেন বেঁচে যায় কোনোভাবে, অ্যাশলে ল্যাভেলের ২০ বছরের সাজা হয়েছিলো।

৫। শ্যারন সিয়েরম্যান্সের চার বছরের একটি ছেলে ছিল, নাম অ্যারন। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হয়েছিল কয়েক বছর আগেই। এর মাঝে শ্যারনের সাথে অনলাইনে সম্পর্ক হয় জ্যাসন জন ডিন্সলে নামক এক ব্যক্তির সাথে। শ্যারন, জ্যাসন জন ডিন্সলের অতীত সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। জ্যাসন জন ডিন্সলে ছিল উগ্র মেজাজী এবং একই সাথে একশোর মত মামলায় পূর্ব থেকেই দোষী সাব্যস্থ। এই একশো মামলার মধ্যে রয়েছে ছুরি দেখিয়ে খুন করার হুমকি দিয়ে অজ্ঞাত নারীকে ধর্ষন করার মতো কুৎসিত মামলা। একদিন শ্যারন এবং জ্যাসন জন ডিন্সলে বাহিরে কোথাও ডেট করতে গিয়ে সামান্য একটু কথাকাটি হয় দুজনের মধ্যে, যা জ্যাসন জন ডিন্সলের মতো উগ্র মেজাজের অধিকারী কোন ব্যক্তিকে অপরাধ করার জন্য প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে এটা স্বাভাবিক। হয়েছিলও তাই, ২০১৩ সালের কোন এক রাতে শ্যারনের ঘরে ঢুকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে আঘাত করতে করতে শ্যারনকে মেরে ফেলে জ্যাসন জন ডিন্সলে। শ্যারনের চার বছরের ছোট ছেলে অ্যারন বাসার কোথাও নিজেকে লুকিয়ে রেখে মায়ের মৃত্যু দেখেছিল। পরদিন সকাল বেলা শ্যারনের এক বন্ধু শ্যারনের বাসায় গেলে অ্যারন বলে— একটা বড় মানুষ ঘরে ঢুকে আম্মুকে ব্যাট দিয়ে পেটাতে পেটাতে মেরে ফেলে। আম্মু এখন আর কথা বলছে না, আম্মু আমাকে সকালের নাস্তা করে দিচ্ছে না। পরবর্তীতে জানা যায় পুর্বের মামলা গুলো থেকে ওই সময় ডিন্সলে জামিনে মুক্ত ছিল। তাকে ৩২ বছরের সাজা দেন আদালত।

৬। একাকীত্ব খুব ভয়ানক ব্যাধি। জেট জ্যাকবের স্বামীর মৃত্যুর পর এই রোগ তাকে মারাত্বক পেয়ে বসলে তিনি অনলাইনে সঙ্গীর খোঁজ করতে থাকেন। খুঁজতে খুঁজতে তিনি নাইজেরিয়ান একজনকে পেয়েও যান। যার নাম জেসি ওরো ওমুকো। সম্পর্ক হয়ে যাওয়ার পর জ্যাকব এবং ওমুকোর অনলাইনেই রোম্যান্স চলতে থাকে প্রায় চার বছর ধরে। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নেন, সরাসরি দেখা করার। এত দিনে জ্যাকবের নিকট থেকে প্রায় দুই লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন ওমুকো। ওমুকোকে এতটাই বিশ্বাস করেছিলেন জ্যাকব যে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় দেড় কোটি টাকা তাকে দিয়ে দেন। প্রেম মানুষকে অন্ধ করে দেয় সত্য, নাহলে কি আর এমনটা হয়! কথায় আছে, প্রেম শুধু কাছেই টানে না, শক্ত রশি বাধা আছে এমন গাছেও টানে। জেট জ্যাকবকেও সুদুর নাইজেরিয়ায় টেনে এনেছিলো তার প্রেম আর অন্ধ বিশ্বাস। কিন্তু তিনি নাইজেরিয়ায় পৌছানোর কিছু সময় পর পরই ওমুকোর হাতে খুন হন। এমনকি সাথে থাকা তার টাকা, গহনা, ল্যাপটপ সবকিছুই নিয়ে নেয় ওমুকো। খুনের পর পুলিশের হাতে ধরা পড়লে ওমুকো স্বীকার করে যে সে ৩২টি আলাদা আলাদা নামে অনলাইনে নিজের একাউন্ট পরিচালনা করতো এবং তা দিয়ে প্রেমের ফাঁদ পেতে এসব কুৎসিত কর্মকান্ড চালিয়ে যেত।

৭। নিজের বয়স ৪০ এবং নিজের আপন মেয়ের বয়স ১৮ বছর। মেরি শিলার নামের ৪০ বছরের এক নারী নিজের সেই ১৮ বছরের মেয়ের ছবি দিয়ে জেসি নামে একাউন্ট খুলে অনলাইনে মানুষের সাথে ডেটিং করে সময় পার করতেন। মেরি শিলার এভাবে নানাজনের সাথে অনলাইনে সম্পর্ক করেন, এর মধ্যে মন্টগোমেরি এবং ব্রায়ান ব্যারেট নামের দুজন ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক হওয়াতেই শুরু হয় সমস্যা। মন্টগোমেরি এবং ব্রায়ান ব্যারেট একই সাথে কাজ করতেন, তারা ছিলেন সহকর্মী। নানাজনের সাথে সম্পর্ক থাকলেও একটা সময়ে গিয়ে একজনকেই বেছে নিতে হয়। জেসিও এটা বুঝতে পারছিলেন। তিনি ব্রায়ান ব্যারেটের দিকে ঝুঁকে পড়েন। মন্টগোমেরি জেসির এই সরে যাওয়া সহ্য করতে পারেনি। সে তাদের কর্মস্থল পার্কিং লটেই সহকর্মী এবং প্রেমের প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রায়ান ব্যারেটকে খুন করে।

৮। একদিন হঠাৎ করেই মা জানতে পারলেন মেয়ে চিরদিনের জন্য বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে কোন ছেলের সাথে। সেই মেয়ে আর সত্যি সত্যিই ফিরে আসেনি। ফিরবে কি করে, তাকে যে খুন করা হয়েছে! ২৮ বছর বয়সী এশলে পেগ্রাম নামের এক নারী অনলাইনে meet me ওয়েব সাইটের মাধ্যমে প্রেমে পড়েন ২০ বছর বয়সী এডওয়ার্ড বনিলা নামের এক ছেলের। কোনো এক স্থানে ডেট করতে গিয়ে এশলে পেগ্রাম খুন হন এডোয়ার্ডের হাতে। এশলের রক্তাক্ত দেহ পাওয়া যায় পরিত্যাক্ত কাঠ দিয়ে ঘেরা কোন এক স্থানে। এডওয়ার্ড নিজেকে নির্দোষ দাবী করে স্বাক্ষ্য দেন যে সে তাকে খুন করেনি, এটা ছিল স্রেফ দুর্ঘটনা। সেদিন রাতে এশলে মাতাল ছিলো এবং মাতাল অবস্থায় এশলে তার গাড়ির ভেতর মলত্যাগ করতে চাইলে বনিলা তাকে বাধা দেয়, এতে এশলে রেগে গেলে এডওয়ার্ড তাকে বুঝতে না পেরেই গাড়ি দিয়ে আঘাত করে, কিছুক্ষন পর এডওয়ার্ড খেয়াল করে যে এশলের সারা গায়ে রক্তের ছড়াছড়ি। এটা দেখে সে তাকে জড়িয়ে ধরে, কিন্তু এশলে ততক্ষণে তার বাহুতেই মারা যায়, এরপর লাশ গোপন করার জন্য সে এই ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু আদালত তার এই মিথ্যে গল্পে কর্ণপাত না করে এশলের খুনের দায়ে এডওয়ার্ডকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

৯। ২০১৫ সালে একটি অনলাইন ডেটিং সাইটের মাধ্যমে পরিচয় হয় নিকোলে এবং জোনাথন ড্যানিয়েল হ্যারিসের সাথে। ঐ বছরের জুন মাসে একুপরের সাথে দেখা করেতে যান দুজনেই। কিন্তু নিকোলে আর বাড়ি ফিরে না আসাতে নিকোলের মা পুলিশের নিকট কমপ্লেইন করলে পুলিশ নিকোলেকে খুঁজতে থাকে। যেদিন রাতে নিকোলে বাসা থেকে বের হয়ে যান, সেদিন হ্যারিসের সাথে তিনি একটি ‘বারে’ একত্রে রাত্রি যাপন করেন। কিন্তু পুলিশের ধারনা হ্যারিস তাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। নিকোলেকে হত্যার পর সে তার মৃতদেহকে বেধে কোন এক নির্জন স্থানে নিয়ে সরু এক গর্তের ভেতর পুঁতে রেখে দেয়, পুলিশ প্রায় দুই সপ্তাহ পর নিকোলের ক্ষত-বিক্ষত, পচে-ক্ষয়ে যাওয়া দেহ উদ্ধার করে। হ্যারিস দোষী প্রমাণিত হলে আদালত তাকে ২৬ বছরের বেশি সময় কারাভোগের আদেশ দেন।

১০। মিনা এল হোয়ারি নামের ২৫ বছর বয়সী একজন ফ্রেঞ্চ নারী ফেসবুকে প্রেমে পড়েন এক মরোক্কো পুরুষের। খুব সুন্দরভাবেই চলছিল তাদের অনলাইন ডেটিং। ফেসবুকের মাধ্যমেই ভালোবাসার আদান-প্রদান চলছিল কয়েক মাস ধরে। কয়েক মাস অনলাইনে চ্যাটিং করার পর তারা দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। মিনা তার প্রেমিকের সাথে দেখা করার জন্য মরোক্কোতে ঐ ছেলের বাড়িতে পাড়ি জমান। কিন্তু মিনা এল হোয়ারি ছিলো ডায়বেটিকের রোগী। তার শরীরের ডায়াবেটিকের মাত্রা এতই বেশি ছিলো যে, তিনি মাঝে মাঝে নিস্তেজ হয়ে পড়তেন। অপরিচিত কেউ দেখলে হয়তো মনে করবেন তিনি মারা গেছেন। মিনা তার প্রেমিকের বাড়িতে গিয়েও ডায়াবেটিকের সমস্যায় পড়েন এবং তিনি ডায়াবেটিক কোমায় চলে যান, এতে করে মিনার ঐ মরোক্কো প্রেমিক ভয় পেয়ে যান। তিনি মনে করেন যে তার বাড়িতে এসে একজন একজন মানুষ এমনভাবে মরে গেলো। এতে তিনি সমস্যায় পড়ে যাবেন, তিনি অপরাধী হয়ে যাবেন। এ কারণে তিনি নিজের বাগানে কবর দেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে মিনা অতিমাত্রায় ডায়াবেটিক সমস্যার কারনে একেবারে নিস্তেজ হয়েছিলেন, কিন্তু মরে যাননি। তারপরও তাকে ভুল করে জীবিত কবর দিয়ে দেয়ায় মৃত্যু হয়েছিল তার।

শেষকথাঃ

উপরের ঘটনা সমুহ ভয়ানক, কুৎসিত। তবে প্রেম সুন্দর। কিন্তু সেই প্রেম যেন অন্ধ না হয়। মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো ঠিক নয়, তবে মানুষকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করাও ঠিক নয়। আমাদের প্রয়োজন সচেতনতা। আমরা কখন কোথায় কি করি তা পরিবারের সবাইকে জানানো উচিৎ। যদিও প্রেমের কথা জানানো সম্ভবপর হয়ে ওঠে না, তবুও বুঝতে চেষ্টা করা উচিৎ যে, সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নিচ্ছে। সেই হিসেবে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। সবার জীবন সুন্দর হোক।

[X]