‘মেয়েরা জিন্স পড়ছে, তাই ভূমিকম্প হচ্ছে’

ভূমিকম্পের আসল কারণটা যাই হোক না কেনো, সে বিষয়ে এর আগে অনেকেই অনেক রকমের বিচিত্র মতামত দিয়েছেন। কেউ বলেছেন গরু খাওয়ার ফলেই নাকি কেঁপে উঠছে মাটি, কেউ বলেছেন নির্দিষ্ট ধর্মের ছাতার তলায় না গেলে এভাবেই ঈশ্বরের রোষানলে পড়তে হয় !

অতঃপর এবার নতুন এক আজগুবি তত্ত্বের হদিস পাওয়া গেলো।

ইসলামাবাদে একটি সংবাদ সম্মেলনে জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলামী ফজল (JUI-F)-এর মুখ্য মওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, মেয়ে‍রা জিন্সের প্যান্ট পর‍ার কারণেই নাকি বিশ্বজুড়ে ঘটছে ভূমিকম্পের মত একের পর এক ভয়ানক সব বিপর্যয় !

তিনি দাবী করেন, পাক সরকার যেনো সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে এখনই একটি মিলিটারি অপরেশন করে সে দেশে মহিলাদের জিন্স পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তাঁর মতে, মেয়েদের অশোভন আচরণ শুধু ভূমিকম্প নয়, মুদ্রাস্ফীতিরও কারণ ! যে মেয়েরা নিজেদের ময়দার বস্তার মত ঢেকে রাখেনা, তারা আসলে মানবসভ্যতা ধ্বংসের মোবাইল অস্ত্র। এমনটাই মনে করেন ফজলুর রহমান নামে জনৈক এই মহাজ্ঞানী ব্যক্তি।

পাকিস্তানের বিদ্যুতের সংকট, নিরাপত্তা ধ্বংস এমনকি বেলুচিস্তানের সমস্যার পেছনেও মেয়েদের অশালীন কাপড় ও অশোভন আচরণকে দায়ী করেছেন জেইউআইএফ প্রধান।

“নারীদের বস্তায় পুরে বাড়ির মধ্যে রেখে দিয়ে দেশে শরিয়াহ আইন চালু করলে তালিবানি ভাইরা আর পাকিস্তান আক্রমণ করবেনা” – এটাই তার ভাষ্য !

২০০৩ সালের ডিসেম্বরে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন মার্কিন বাহিনীর কাছে ধরা পড়েন। সে সময় মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর কর্মকর্তা জন নিক্সন তাঁকে শনাক্ত ও জেরা করেন।

১৯৯৮ সালে সিআইএতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সাদ্দাম হোসেনের বিষয়ে বিশেষভাবে তত্ত্ব-তালাশ চালাতেন নিক্সন। তাই সাদ্দামকে জেরা করার জন্য তাঁরই ডাক পড়ে।

সাদ্দাম হোসেনের জীবদ্দশায় একটি কথা বেশ চালু ছিল যে নিরাপত্তার জন্য একই চেহারার কয়েকজন সাদ্দাম ছিলেন। তবে নিক্সন বলেন, ‘তাঁকে দেখার পর আমার সাদ্দামকে চিনতে একটুও কষ্ট হয়নি। আমি নিশ্চিত ছিলাম, এই মানুষটিই সাদ্দাম। আমার ডেস্কে অনেক বছর ধরে পড়ে থাকা একটি বইয়ে সাদ্দামের যে মুখভঙ্গি রয়েছে, আলাপ শুরু করার পর দেখি, সেই একই মুখ।’

নিক্সনই প্রথম ব্যক্তি, যিনি সাদ্দামকে জেরা করেছিলেন। তবে সেই জেরা করার মুহূর্তটি সিআইএর এই কর্মকর্তার কাছে ছিল বিস্ময়কর। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের গায়ে চিমটি কেটে নিশ্চিত হয়েছিলাম যে আমিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফেরারি মানুষটিকে জেরা করছি। আমার কাছে একেবারে আজগুবি ঠেকেছিল বিষয়টি।’

নিক্সন বলেন, নানা বিপরীতমুখী বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছিলেন সাদ্দাম হোসেন নামের মানুষটি। নিক্সন সাদ্দামের ‘মানবিক দিক’ দেখেছিলেন। তিনি বলেন, মার্কিন গণমাধ্যমে সাদ্দামকে যেভাবে তুলে ধরা হয়, এটি তার একেবারে বিপরীত। নিক্সন আরও বলেন, ‘আমি এযাবৎ যত মানুষকে জেরা করেছি, এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর চরিত্র ছিলেন সাদ্দাম। তিনি চাইলেই চমৎকার, নম্র আচরণ করতেন। কৌতুকবোধও ছিল তাঁর মধ্যে।’

সাদ্দাম চরিত্রের এসব বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি নিক্সন তাঁর অন্ধকার দিকের দিকেও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, মাথা গরম হয়ে গেলে সাদ্দামের প্রচণ্ড বদরাগী, অসভ্য ও নীচু মানসিকতার চরিত্রটি প্রকাশ হয়ে পড়ত।

নিক্সন বলেন, ‘দুই বা তিনবার আমার প্রশ্ন সাদ্দামের এই চরিত্র জানান দিয়েছিল।’

একটি ছোট কক্ষে বন্দী সাদ্দামকে জেরা করেন নিক্সন। একটি চেয়ারে তাঁকে বসতে দেওয়া হয়েছিল। জেরার সময় শুধু নিক্সন, জবানবন্দি ধারণকারী এবং একজন দোভাষী থাকতেন।

জেরার শুরুতেই সাদ্দামের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন নিক্সন। শুরুটা ভালোই হয়েছিল। তবে ক্রমেই সাদ্দাম অনেক বেশি ধন্দ সৃষ্টি করতে শুরু করেন।

জেরার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডব্লিউএমডি)। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এ যুদ্ধ শুরুর আগে সাদ্দামের বিরুদ্ধে এ অস্ত্র তৈরির অভিযোগ এনেছিলেন। নিক্সন বলেন, এ বিষয়টির প্রতিই হোয়াইট হাউসের মূল আকর্ষণ ছিল। তবে সাদ্দামকে জেরা, তাঁর উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা এবং বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, সাদ্দাম তাঁর দেশের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছিলেন এ যুদ্ধের কয়েক বছর আগেই। আর এ কার্যক্রম শুরুর কোনো ইচ্ছেও তাঁর ছিল না।

সাদ্দামকে জেরার করার পাঁচ বছর পর ২০০৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে সেই জেরা সম্পর্কে জানানোর ডাক পান তিনি। নিক্সন হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি বুশ ও সাদ্দাম – দুই ব্যক্তির সঙ্গেই করমর্দন করেছিলেন। তবে নিক্সন বলেন, প্রেসিডেন্ট বুশ বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে ছিলেন। সিআইএর কর্মকর্তা নিক্সন বলেন, সাদ্দামকে উৎখাতের পর ইরাকে যা ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি লজ্জিত।

হত্যার আগে পর্ন দেখিয়ে কয়েকবার ধর্ষণ করা হয় মনিকাকে

ভারতীয় সুগন্ধি বিশেষজ্ঞ মনিকা ঘুর্দে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত নিরাপত্তা কর্মী রাজ কুমারকে জেরা করে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে রাজ কুমার পুলিশকে জানিয়েছে, মনিকার প্রতি তার আসক্তি ছিল। অনেক দিন ধরেই তাকে অনুসরণ করত সে। সানগোলদায় যে ফ্ল্যাটটি মনিকা কিনেছিলেন সেখানে আগে থেকেই লুকিয়ে ছিল রাজ কুমার। ঘটনার দিন সন্ধেবেলায় মনিকা যখন ফ্ল্যাটে ঢোকার পরই রাজ কুমার দরজা নক করে। নিজেকে সিকিউরিটি সুপারভাইজার বলে পরিচয় দেয়। মনিকা দরজা খুলতেই রাজ কুমার জোর করে ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরে তার গলায় ছুরি ধরে জবরদস্তি করার চেষ্টা করে রাজ কুমার। মনিকা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু তার সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। ধস্তাধস্তির মধ্যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মনিকা। তখন তাকে বিছানায় শুইয়ে হাত পা বেঁধে ফেলে রাজ কুমার।

এখানেই শেষ নয়। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে রাজ কুমার। ধর্ষণ করার আগে মনিকাকে পর্ন ক্লিপিং দেখায়। তারপর বেশ কয়েক বার ধর্ষণ কর‍া হয় তাকে। এর পর মনিকাকে গলা টিপে, বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে রাজ কুমার। পুরো ঘটনাটা খুব ঠাণ্ডা মাথায় করেছে বলে দাবি পুলিশের।

গত ৬ অক্টোবর ভারতের গোয়ার সানগোলদার একটি ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে মনিকার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মনিকা রাজ কুমারকে তার টাকা, গয়না সব কিছু দিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি সে। এর পর মনিকার এটিএম কার্ড, পিন নম্বর এমনকী মোবাইলও নিয়ে নেয় রাজকুমার। তার পর সেই মোবাইল থেকেই মনিকাকে পর্ন ক্লিপিং দেখায়। এরপর তার পায়ের বাঁধন খুলে ধর্ষণ করা হয়।

মনিকার দেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্তের হদিস পায়। মনিকার এটিএম কার্ড ব্যবহার করে বেশ কিছু জিনিস কেনে রাজ কুমার। সেই সূত্র ধরেই রাজ কুমারের সন্ধান পায় পুলিশ। তাকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কেন এই কাজ করল রাজ কুমার?

গোয়া পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিহিংসা এবং লালসার বশেই এই কাজ করেছে সে। রাজ কুমারকে আগে থেকেই চিনতেন মনিকা। হরিয়ানা থেকে বি কম প্রথম বর্ষ শেষ করার পর এপ্রিলে গোয়ায় চলে আসে রাজ কুমার। সেখানে একটা নিরাপত্তা সংস্থার অধীনে কাজ নেয়। যে আবাসনে রাজ কুমার নিরাপত্তা কর্মীর কাজ করত সেই আবাসনেই এক দিন ফ্ল্যাটের খোঁজ করতে আসেন মনিকা। আবাসনের গেটে রাজ কুমারের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। কোন কোন ফ্ল্যাট ফাঁকা আছে সেই খবরও মনিকাকে দেয় রাজ কুমার। কিছু দিন পর থেকেই সেখানে একটি ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন মনিকা।

পুলিশের কাছে রাজ কুমার স্বীকার করেছে, প্রথম দিন দেখার পরেই মনিকার প্রতি তার আসক্তি তৈরি হয়। তার উপর নজর রাখা শুরু করে সে। মনিকা যে একাই ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন সেটা জানতে পারে রাজ। গত ২২ জুলাই মনিকা-সহ আবাসনের কয়েক জন বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে কাজ খোয়ায় সে। অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য মনিকার উপর চাপ দেয় রাজ কুমার। কাজ হারিয়ে ক্ষোভে এবং হতাশায় প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে রাজ কুমার। সহজ শিকার বানায় মনিকাকে। ধর্ষণ করা ও তার পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন আসছে।

১৯৪৬ সালে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছিল দাউদ ইব্রাহিম খান নামে এক শিশু। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এক গাড়ি দুর্ঘটনায় ইব্রাহিমের বাবা-মা দুজনই নিহত হন। এতিম ইব্রাহিমকে দত্তক নেন এক মার্কিন দম্পতি। তারা ইব্রাহিমের নতুন নাম দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেদিনের সেই শিশুটিই আজকের ডোনাল্ড ট্রাম্প, পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই গত মাসে এসব খবর দিয়ে উদ্ভট এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের একটি নিউজ চ্যানেল নিও নিউজ। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিবেদনটি পুনরায় প্রচার করা হয়। প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোটবেলার একটি ছবিও দেখানো হয়েছে। এটি প্রচারের পরপরই পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রচণ্ড হাসি-ঠাট্টা শুরু হয়।

প্রতিবেদনটির শুরুতেই প্রতিবেদক বলেন, ‘বিশ্বাস করুন বা না করুন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম আমেরিকায় নয়, পাকিস্তানে।’

এরপরই তিন চার বছরের একটি শিশুকে দেখিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিশুবেলার ছবি বলে দাবি করে চ্যানেলটি।

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রাম্পের বাবা-মা গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর একজন বৃটিশ-ভারতীয় আর্মি ক্যাপ্টেন তাকে লন্ডনে নিয়ে যায়। সেখানে ১৯৫৫ সালে এক মার্কিন দম্পতি তাকে দত্তক নিলে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া হয়।

তিন ফুট বাড়ছে সাগরের পানি !

পৃথিবীর উষ্ণতা প্রতিনিয়তই বাড়ছে, এট‍া নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে দুশ্চিন্তার মত নতুন বিষয়টি হচ্ছে, তিন ফুট বাড়ছে সাগরের পানি , তাও আবার শুধুমাত্র পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ার ফলে !

 

ইদানিং যত দ্রুত পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ছে, গত এক হাজার বছরেও ততটা বাড়েনি। আর এত দ্রুত বাড়ছে যে, গত বছর বিশ্ব নেতৃবৃন্দ উষ্ণতা বৃদ্ধির হার যে পর্যায়ে রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন, সেই পর্যায়ে রাখা মনে হয় সম্ভব হবে না। এরই মধ্যে তার চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ বছর সারা পৃথিবীতে প্রচণ্ড গরম পড়ে এবং আমরা সকলেই তা বেশ ভালোভাবেই অনুভব করেছি।

 

১৯ শতকে সারা পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পায়। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কথা এই তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রার একদম  কাছাকাছি। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে তিন ফুট।

 

বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই বিপজ্জনক মাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করেছেন প্যারিসে অনুষ্ঠত জলবায়ু সংক্রান্ত বৈঠকে। কিন্তু এই জুলাই মাসেই চরম আকার নেয়। এমনকি শীত প্রধান দেশের মানুষও অস্থির হয়ে ওঠে সে মাসে।

 

বিপিএলের টিকেট সংগ্রহ করুন এখান থেকে‍ঃ BPL Live TV

একদিনের জন্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী হলো বাংলাদেশের যুবক !

এক দিনের কোনো দেশের মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা, দেশটির ক্ষমতা হাতে রাখা। এধরনের ঘটনা সাধারণত সিনেমা, নাটক অথবা সাহিত্যে দেখা যায়। চেয়ারে বসামাত্রই দেশটির নানা অনিয়ম-অনাচার দূর করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করা। তবে এবারের ঘটনাটি পুরোপুরি সত্য। তাও আবার কানাডার মতো একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা !

 

সম্প্রতি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পিজে লাখানপাল নামে এক ভারতীয় তরুণ দেশটির একদিনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ! প্রধানমন্ত্রী দফতরে সে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর জন্য রাখা একটি চেয়ারে বসে কেটেছে তার সারাটা দিন।

 

আসলে ১৯ বছর বয়সী লাখানপালের আদি বাড়ি ভারতের পাঞ্জাবে। জন্ম বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে। এক ধরনের জটিল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন তিনি। ক্রমেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসছিল তাঁর। এরপর লাখানপালের সামনে সুযোগ আসে ‘মেক আ উইশ’ নামের এক কর্মসূচীতে অংশ নেওয়ার।

 

এই কর্মসূচীর উদ্দেশ্য মরণব্যাধিতে আক্রান্ত কোন তরুণের শেষ ইচ্ছা পূরণে কাজ করা। আয়োজকদেরও চেষ্টা থাকে আক্রান্তের শেষ ইচ্ছা পূরণে সবকিছু করার। এরপর ছেলেটির কাছে জানতে চাওয়া হয় তার শেষ ইচ্ছার কথা। এ সময় আয়োজকদের উদ্দেশ্যে লাখানপালের ঝটপট উত্তর ছিল, তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী হতে চান।

 

এ কথা শুনে আয়োজকদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। এভাবে আস্তে আস্তে ছেলেটির এই ইচ্ছার কথা পৌঁছে যায় খোদ প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর কানে। প্রধানমন্ত্রী এই ছেলেটির ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসেন। সুযোগ করে দেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার।

কেনো এই ফার্মের খাঁচার ভেতর প্রকাশ্যেই পঁচানো হয় মান‍ুষের মৃতদেহ?

খোলা মাঠের উপর রাখা সারি সারি তারের খাঁচা। প্রতিটা খাঁচার মধ্যে সযত্নে রাখা হয়েছে এক একটি মানুষের মৃতদেহ। প্রকাশ্যেই পঁচছে সেগুলি। কেয়ারটেকার এসে নিয়মিত সেগুলোর দেখভালও করছেন। এ দৃশ্য দেখে মনে হতেই পারে কোনও সাইকোপ্যাথের কাজ। কিন্তু তা নয়। তাহলে কেন এভাবে পঁচছে মৃতদেহ?

 

আমেরিকার এই ফার্মে ভিতরের দৃশ্য দেখলে শিউরে উঠবেন অনেকে। বিশ্বে এরকম ফার্ম একমাত্র এখানেই আছে। কিন্তু কেন প্রকাশ্যেই পঁচছে মানুষের মৃতদেহ? আসলে এই ফার্ম একটি গবেষণাগার। মানুষের মৃতদেহ এখানে রাখা হয়েছে বিশেষ পরীক্ষার জন্যই। মৃত্যুর পর দেহের পঁচন পরীক্ষার জন্যই বিজ্ঞানীরা এভাবে রাখেন মৃতদেহগুলোকে। শুধু খোলা জায়গাতেই নয়, বিভিন্ন পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে মৃতদেহগুলোকে পর্যবেক্ষণের জন্য রাখা হয়। যেমন জলে ডুবিয়ে বা গাড়ির মধ্যে রেখে পঁচনের হার পরীক্ষা করেন বিজ্ঞানীরা। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় এই পদ্ধতিতে বলা হয়, ‘হিউম্যান ট্যাফোনমি’।

 

কেনো চলে এই পরীক্ষা? বিজ্ঞানীরা এভাবেই পরীক্ষা করে দেখেন মৃতদেহের পঁচন কি সারা বিশ্বেই একরকমের প্রক্রিয়া নাকি অন্যরকম। তাপমাত্রা ও অন্যান্য পরিস্থিতিতে আলাদা কোনো প্রভাব পড়ে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হয়। মানবদেহের পঁচন অত্যন্ত জটিল এক জৈবিক প্রক্রিয়া। এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করেই তা আলাদা হয়। সেই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জিনিসই পরীক্ষা করা হচ্ছে এই গবেষণাগারে।

 

তাতে অবশ্য মানবজাতিরই কল্যাণ। পঁচন নিয়ে পর্যবেক্ষণ ফরেন্সিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক। কোনো অপরাধের ঘটনায় মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছান বিশেষজ্ঞরা তা এই গবেষণার খাতিরেই। এবং এই পর্যবেক্ষণ যত সঠিক হবে, ততই মৃতদেহের প্রকৃতি থেকে অপরাধ নিয়ে নিখুঁত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবেন বিশেষজ্ঞরা।

 

আপাতত মার্কিন মুলুকে থাকলেও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও এই ধরনের ফার্ম খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশেও খোলা হতে পারে এই বিশেষ গবেষনাগার।

 

জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাটাকে তুরস্ক যে বাংলাদেশের ‘বিরাট এক ভুল’ বলেই মনে করে, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন তাদের এক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক।

 

দিল্লিতে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ড: বুরাক আকচাপার বিবিসি বাংলা-কে বলেছেন – এই ফাঁসি কার্যকর করায় তারা যে ক্ষুব্ধ, সেটা প্রকাশ করাটা তুরস্কের অধিকারের মধ্যেই পড়ে এবং তুরস্ক নিজামীকে কোনো যুদ্ধাপরাধী নয়, বরং একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই দেখছে।

 

নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করার প্রতিবাদে তুরস্ক ইতিমধ্যেই ঢাকা থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে, তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তীব্র ভাষায় এই ফাঁসির নিন্দা করেছেন।

 

বাংলাদেশে ১৯৭১-এ সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের জন্য দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসি দেওয়া হয় ঠিক এক সপ্তাহ আগে। সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য বাংলাদেশের সমালোচনা করেছে অনেক দেশই। কিন্তু তুরস্ক যে ভাষা ও ভঙ্গিতে তাদের প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছে তা প্রায় নজিরবিহীন।

 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান নিজামীর ফাঁসির আগে ও পরে বারবার এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন, এমন কী ইউরোপ কেন এই প্রশ্নে নীরব, সে প্রশ্নও তুলেছেন। ফাঁসির পর তুরস্ক বাংলাদেশ থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আঙ্কারা ও ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কও এখন হুমকির মুখে।

 

বাংলাদেশের নিজস্ব একটি বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তুরস্ক কেন এত কঠোর অবস্থান নিয়েছে, দিল্লিতে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ড: বুরাক আকচাপারের কাছে তা জানতে চাইলে দাবি করেন, তুরস্কের এই কঠোর অবস্থান সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত।

 

ড: আকচাপার আপাতত ঢাকাতেও তাদের কূটনৈতিক কার্যক্রম তদারকি করছেন। তিনি বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক নেতাকে ফাঁসিতে ঝোলানো যে কখনোই সমীচিন নয় – আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গীটা স্পষ্টভাবে জানানোর প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের মানুষকে আমরা বন্ধুর মতো, ভাইয়ের মতো ভালবাসি বলেই তাদের এই বার্তাটা দিতে চেয়েছি যে এভাবে কোনও উদ্দেশ্য সিদ্ধ করা যায় না।’

 

তিনি বলেন, তুরস্কের ইতিহাসেও একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে আদালতে বিচার করে তারপর ফাঁসিতে ঝোলানোর নজির আছে। ‘কিন্তু আজও আমরা সেই ফাঁসির জন্য অনুশোচনা করি। এভাবে আসলে কোনও সমাধান হয় না।’

 

তুর্কী রাষ্ট্রদূত যার কথা বলছেন, সেই আদনান মেন্দেরিসকে সংবিধান লঙ্ঘন করার অপরাধে তুরস্কের একটি সামরিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আজ থেকে ৫৫ বছর আগে।

 

আর নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আল বদরের মতো একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার – যারা যুদ্ধের সময় খুন, ধর্ষণ বা গণহত্যায় লিপ্ত ছিল। নিজামীর বিচারও হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

 

এটা কি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ একটা বিষয়ে তুরস্কের হস্তক্ষেপ করার সামিল? এ প্রশ্নের জবাবে ড: আকচাপার বলেন, কোনো একটা জিনিস যদি আমরা মনে করি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী, তাহলে আমাদেরও কিন্তু অধিকার আছে তা প্রকাশ করার।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে বন্ধু বলে মনে করি বলেই কিন্তু আমরা মন খুলে কথা বলছি। যাদেরকে আপনি একই পরিবারের সদস্য বলে মনে করেন, তাদের বেলায় কখনও কখনও কিন্তু চুপ করে থাকার চেয়ে বড় প্রতারণা আর কিছু হয় না।’

 

বাংলাদেশের মানুষদের একটা বিরাট অংশ বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করে এসেছেন- বিশেষ করে যুদ্ধের সময় যারা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাদের সেই অন্যায়ের একটা ক্লোসার দেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের এই জনগণের থাকার প্রশ্নটাকে তুরস্ক কীভাবে দেখছে – এ প্রশ্নের উত্তরে ড: আকচাপার জানান, বাংলাদেশের কী অধিকার আছে না-আছে তা নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না।

 

‘মৃত্যুদণ্ড এমনিতেই কোনো ভাল সাজা নয় – আর একজন রাজনৈতিক নেতাকে ফাঁসিতে ঝোলানো তো কিছুতেই মানা যায় না। অমুক কারণ কি তমুক কারণ দেখিয়ে একজন রাজনৈতিক নেতাকে যদি হত্যা করা হয় – তাহলে আমাদেরও কিন্তু অবশ্যই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আছে। তবে প্রশ্নটা শেষ পর্যন্ত অধিকারের নয় – আমাদের মূল কথাটা হল এই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ কিন্তু বিরাট একটা ভুল করেছে।’

 

তুর্কী রাষ্ট্রদূত নানা ভাবে তার কথার মধ্যে দিয়ে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন – নিজামীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যেসব অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে সেগুলোকে তারা গুরুত্ব দিতে রাজি নন।

 

তুরস্ক তাকে বাংলাদেশের একজন প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই গণ্য করছে, কোনো যুদ্ধাপরাধী বলে মনে করছে না। তাহলে বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধের সময়কার ভুক্তভোগীরা কীভাবে বিচার পাবেন? ড: আকচাপারের সংক্ষিপ্ত জবাব – ‘টাইম ইজ দ্য বেস্ট হিলার, অর্থাৎ সময়ের চেয়ে ভাল উপশম আর কিছু হতে পারে না।’

 

সূত্র‍ঃ বিবিসি বাংলা

ছেলেকে বিয়ে করাতে গিয়ে পাত্র হলেন বাবা নিজেই। শুধু তাই নয়, ছেলের আগেই আসরে নিজের বিয়ে সারতে হলো। কেনো ঘটলো এই ঘটনা, জানতে চান?

মেয়ের বাড়িতে হাজির বর পক্ষ। ছেলের সঙ্গে বাবা ও তার পরিবার। মেয়ে বাড়িতে সবই ঠিক, হঠাৎ বাধ সাধল মেয়ের মা। নিজের ছোট মেয়ের বিয়ের আগে বড় মেয়ের বিয়ে হতে হবে, যতদিন না বড় মেয়ের বিয়ে হচ্ছে ছোট মেয়ের বিয়ে দেবেন না তিনি।

ছেলেও নাছোড়বান্দা। বিয়ে করেই বাড়ি ফিরবে। কোনও উপায় না দেখে বড় মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন ছেলের বাবা। এই প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যান মেয়ের মা। ব্যস। বাবা ছেলে বাড়িতে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ সৌদি আরবে।