ফেসবুকের আলোচিত ডিএসইউ (DSU) গ্রুপের ৩ এডমিন গ্রেপ্তার

অবশেষে গ্রেপ্তার হলো বহুল আলোচিত ডেসপারেটলি সিকিং আনসেনসর্ড (DSU) গ্রুপের তিন এডমিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘদিন ধরে পর্নোগ্রাফি ছড়ানো, উস্কানিমূলক ও অশ্লীল বক্তব্য এবং নানাভাবে মেয়েদের হয়রানির অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে আসছে ডেসপারেটলি সিকিং আনসেনসরড Desperately Seeking-Uncensored(DSU) নামের ওই ফেসবুক গ্রুপের সদস্যরা। তারা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস এবং অন্যের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে পর্নোগ্রাফি প্রচার করত। এসব অভিযোগে ওই গ্রুপের সক্রিয় ৩ এডমিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার কর‍া হতে পারে আরো ১৬০ জন সক্রিয় সদস্যকে। দীর্ঘদিন যাবৎ এদের উপর নজরদারি করে এদের কার্যকলাপ দেখা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের দায়ে ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ তাদের গ্রেফতার করে।

 

গত বুধবার দুপুরে কলাবাগান থানার গ্রীনরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় জুবায়ের আহম্মেদ (২১), তৌহিদুল ইসলাম অর্নব (১৯) ও মো. আসিফ রানা (১৮) নামে ডিএসইউ’র ৩ অ্যাডমিন সদস্যকে। এ সময় তাদের নিকট থেকে কম্পিউটার হার্ডডিস্ক ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

 

তিনি আরো বলেন, এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ১ লক্ষ ২২ হাজার। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের মেয়েদের প্রতি তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবার অত্যাচার চালিয়ে আসছিল গ্রুপটি। আব্দুল বাতেন বলেন, গ্রুপটিতে ১৮/২০ রয়েছে শুরু এডমিন দেখার জন্য। মালয়েশিয়া থেকে রাহুল চৌধুরীই মূলত এই ফেসবুক গ্রুপটি পরিচালনা করে থাকেন। তিনি জানান, অবাধে ব্যক্তিগত আক্রমন, লাইভ পর্নসহ যৌনতার বিকৃত বহিঃপ্রকাশ চলে। তারা যে কোন অপরিচিত মানুষের ছবি, গোপনে ধারণকৃত ভিডিও লিংক ফেসবুকে শেয়ার করে তাতে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। এদের দ্বারা সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি, অভিনেতা, অভিনেত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ জনগন অনলাইনে লাঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

 

এই ডিএমপি কর্মকর্তা জানান, এই কাজে তাদের একটি বিশাল ওয়েব সাইট রয়েছে। ইদানিং এই গ্রুপটি ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া এক মেয়ের ব্যক্তিগত ভিডিও অনলাইনে ফাঁস করে দেয়। মেয়েটির পরিচয় ও তার ভিডিওর লিংক এক লক্ষ বাইশ হাজার সদস্যের এই বিশাল গ্রুপ হতে একের পর এক শেয়ার হয়ে ফেসবুকে মূহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি বলেন, গ্রুপটির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে কাউন্টার টেরোরিজম। প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রুপের এডমিনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালিত হয়। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ঢাকার কলাবাগান থানাধীন গ্রীনরোডস্থ পান্থপথের ১৫২/৭ নম্বর বাড়ির ৬ষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে ৩ জন এডমিনকে গ্রেফতার করা হয়।

 

তিনি আরো বলেন, ফেসবুক পেইজটি বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিএসইউ এর মূল ওয়েবসাইটটি বন্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

ছারপোকার প্রতিষ্ঠাতা কাজী নিপু ফেসবুকে ভেরিফাইড

ফেসবুকে ভেরিফাইড স্বীকৃতি পেলেন প্রজেক্ট ছারপোকার প্রতিষ্ঠাতা কাজী নিপু। গত সোমবার রাত ২টায় Kazi Nipu নামে তাঁর পেজটি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ  নীল রংয়ের টিক চিহ্ন বা ব্লু ব্যাজ দিয়ে অফিসিয়ালি ভেরিফাইড করে দিয়েছে।

 

মাত্র ৯১ লাইক নিয়ে ভেরিফাইড হয়েছে কাজী নিপুর এই ফেসবুক পেজ। কিভাবে এত অল্প ফ্যান নিয়ে তিনি তাঁর পেজটি ভেরিফাই করলেন, এ বিষয়ে জানতে ‍চাইলে তিনি বলেন, রোববার দুপুরে তা‍ঁর ১৬,৯০০ লাইক সম্বলিত Kazi Nipu নামের ফ্যানপেজ হঠাৎ করেই বাদ হয়ে যায়। এরপর তিনি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের নিকট পেজ ফেরত পাবার জন্য আবেদন জানিয়ে ছারপোকা রেকর্ডস (Band Charpoka) এর লাইসেন্স পেপার সাবমিট করলে ফিরতি ইমেইলে তাঁকে নতুন একটি পেজ খুলতে বলা হয়। নতুন করে পেজ খোলার কিছুক্ষণ পরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজী নিপুর ফেসবুক পেজ ভেরিফাই হয়ে যায়।

 

Kazi Nipu লিখে ফেসবুকে ‍সার্চ দিলে তা‍ঁর নামের পাশে নীল রংয়ের একটি ছোট টিক চিহ্ন বা ভেরিফাইড ব্যাজ দেখা যাবে। পেজের লিংকঃ https://www.facebook.com/kazinipu.pg

 

কাজী নিপু মূলত একজন ইলেকট্রনিক মিউজিক কম্পোজার। যদিও তিনি সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট হিসেবেই অধিক পরিচিত। ছদ্মনামে তিনি তার একাউন্টটি পরিচালনা করেন। ২০১৩’র মাঝামাঝি সময়ে কাজী নিপু তার বন্ধুদের নিয়ে ব্যান্ড ছারপোকা নামে একটি টিম ফর্ম করেছিলেন। এই ব্যান্ডের বেশ কয়েকটি গানও কিছু আনরিলিজড অ্যালবামের সাথে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৪ তে একটি অপেরা শো এর প্রস্তাব আসলে নিপু পারফর্ম করতে দ্বিমত জানালে ব্যান্ডটি ভেঙ্গে যায়। তবে এই টিমের বানানো কিছ‍ু ভিজি মিউজিক এখনো বেশ কয়েকটি কোরিয়ান পিসি গেইমস সিরিজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যান্ড ছারপোকার আরেক সদস্য সাজ্জাদ রহমান।

 

সামাজিক সমস্যা ও তার সমাধানের পথ নিয়ে লেখালেখির কারণে কাজী নিপু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০১৫ সালে টিএসসিতে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নারী লাঞ্ছনা ও যৌন নিপিড়নের ঘটনা ঘটলে কাজী নিপু ফেসবুকে এর বিরুদ্ধে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে প্রতিবাদ জানান। এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। Moja Loss, Bangladeshism সহ ফেসবুকের বড় বড় পেজগুলো তখন একসাথে যোগদান করে এই প্রতিবাদ সমাবেশে। আলোচিত সেই স্ট্যাটাসটি বিভিন্ন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের নিউজে দেখানো হয়।  দেশের জনপ্রিয় রেডিও স্টেশনগুলো বাদ যায়নি স্ট্যাটাসটি অন এয়ারে পড়ে শোনানো থেকে ! তবে এরপরই ফেসবুক আইডি এবং পেজ সহ যোগাযোগের সব উপায় বন্ধ করে দেন তিনি। এর ঠিক একবছর পর এবার কাজী নিপু ভেরিফাইড পেজ নিয়ে ফিরে এলেন ফেসবুকে। এবং জানিয়ে দিলেন নতুন করে প্রজেক্ট ছারপোকা নিয়ে মাঠে নামার কথা। দেখা যাক, এই পথ কতটা স‍ুবিস্তৃত হয় ! – Radio Today

সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধু হওয়া নিয়ে ব্যবহারকারীরা তেমন বিশেষ কিছু জিনিস দেখেন না। তবে মিউচুয়াল ফ্রেন্ডে নজর রাখেন প্রায় প্রত্যেকেই। চেনা ভার্চুয়াল বন্ধুরা তালিকায় থাকলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট কনফার্ম করতে কেউ দ্বিধা করেন না। আর এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়েই কেউ কোনো অসাধু কাজো করতে পারেন। সেরকমই এক সতর্কবার্তা ছড়িয়েছে ফেসবুক জুড়ে।

 

কোন বিষয়ে সতর্ক হবেন ব্যবহারকারীরা? মধু শাহ নামে এক মহিলার প্রোফাইল নিয়ে সকলকে সতর্ক থাকার কথা বলছেন কিছু ব্যবহারকারী। কে এই মধু শাহ তা পরিষ্কার নয়। কেননা তার নামে ফেসবুকে অন্তত ২৭টি প্রোফাইল আছে। প্রত্যেকটিতেই আলাদা আলাদা ছবি দেয়া রয়েছে। এই প্রোফাইলগুলো থেকে একাধিক জনকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন তিনি। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় তার কোনো না কোনো প্রোফাইলে মিউচুয়াল ফ্রেন্ড থাকবেই। এই ব্যাপারটিকেই কাজে লাগিয়ে বন্ধুতালিকা আরো বাড়াচ্ছেন প্রোফাইলের মালিক।

 

কিন্তু এ কি নিছকই বন্ধু হওয়ার শখ? ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মতামত, শুধু শখ থেকে এ কাজ কেউ করতে পারেন না। নিশ্চিতই এর পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে। আর এ ব্যাপারেই ছড়াচ্ছে সতর্কতা। হয়ত পাসওয়ার্ড হ্যাক বা ডেটা চুরির মতো কাজের জন্যই কাজে লাগানো হচ্ছে এই প্রোফাইলটিকে। হতে পারে এর পিছনে কোনো বিশেষ চক্র কাজ করছে। কিন্তু কোনো কারণই এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একজনের কাছে একাধিক মোবাইলের সিমকার্ড থাকা যেভাবে সন্দেহজনক, ঠিক সেভাবেই সন্দেহ বাড়াচ্ছে এক ব্যক্তির এত সংখ্যক ফেক প্রোফাইল।

 

তবে ধারণা করা হচ্ছে এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আপনার প্রোফাইলে থাকা সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করাই ওই মহিলার কাজ। তাই এই ছবি এবং মধু শাহ নামে কেউ যদি আপনার ফেসবুকের বন্ধু হয়ে থাকেন, তাহলে এখনই আনফ্রেন্ড করুন। নাহলে আপনার বিপদ হতে পারে।

 

এই প্রোফাইলের মালিক যেমন মিউচুয়াল ফ্রেন্ডের বদৌলতে ছড়িয়ে দিয়েছে নেটওয়ার্ক, তেমনই ফেসবুকের দেওয়ালে দেওয়ালে এই প্রোফাইলের বিরুদ্ধে ছড়িয়েছে সতর্কতা। বন্ধু হওয়া না হওয়া অবশ্যই ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

বায়োমেট্টিক নিয়ে মামলায় হারলো ফেসবুক !

ফেসবুক ইউজারদের বায়োমেট্টিক তথ্য সংরক্ষণ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় হেরে গেছে বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে বড় ওয়েবসাইট ফেসবুক। চলতি বছরের শুরুতে অন্যায় এবং অনৈতিকভাবে ব্যবহারকারীদের বায়োমেট্টিক তথ্য সংরক্ষণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করে কয়েকজন সাধারণ ফেসবুকার।
 
বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট হিসেবে শত কোটি মানুষের তথ্য ফেসবুকের কাছে সংরক্ষিত আছে। গোপনীয়তা বিষয়ক আইনি পরামর্শদাতাদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ মানুষের তথ্য ফেসবুকের কাছে থাকা একেবারেই নিরাপদ নয়। এ ছাড়া সামান্য অসাবধানতায় বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
 
আদালতে অভিযোগকারীরা ফেসবুকের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এ ছাড়া ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এত ব্যবহারকারীর তথ্য নিয়ে কী করবেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। আর এসব অভিযোগেই ক্যালিফোর্নিয়ার আদালত ফেসবুক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। মামলার প্রথম দিনের শুনানিতে ‘অন্যায়’ এবং অনৈতিকভাবে ব্যবহারকারীদের বায়োমেট্টিক তথ্য সংরক্ষণের অভিযোগটি আমলে আনা হয়েছে।
 
তবে প্রথম দিনেই ফেসবুক অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিতে আদালতে আবেদন জানায়। কিন্তু মার্কিন আদালতের বিচারক জেমস ডোনাটো মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় এটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেন। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, বিশ্বের অনেক বড় প্রতিষ্ঠানই গ্রাহকদের বায়োমেট্টিক ডেটা সংরক্ষণ করে। অ্যাপল এবং স্যামস্যাং এই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারী বা গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষেণ করে। এই বায়োমেট্টিক ডেটার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গ্রাহকের আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ।
 
তবে ফেসবুক আঙুলের ছাপ নয় বরং ব্যবহারকারীদের ছবি সংরক্ষণ করে, যা গ্রাহকদের গোপনীয়তা নীতির বিরুদ্ধে বলে মনে করছে গোপনীয়তা বিষয়ক আইনী পরামর্শদাতারা। এ প্রসঙ্গে ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেন, কেবল ট্যাগের সুবিধার জন্যই ব্যবহারকারীদের ছবি সংরক্ষণ করছে ফেসবুক। সে যাই হোক, এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় খবর হচ্ছে, বায়োমেট্টিক নিয়ে মামলায় হারলো ফেসবুক !